চা পাতা : ছোট পুঁজির বড় ব্যবসা

যেভাবে শুরু করবেন

 প্রাথমিক অবস্থায় নিজের থেকেই উদ্যোগ নিয়ে কাজ শুরু করতে পারেন। তাহলে লোক নিয়োগের খরচ কমে যাবে। সারা দেশেই পাড়া-মহল্লা থেকে শুরু করে রাস্তার মোড়ে মোড়ে চায়ের দোকান রয়েছে। অনেক জায়গায় নিজের বা বন্ধু-আত্মীয়স্বজনদের পরিচিত দোকান রয়েছে। তাদের সঙ্গে কথা বলে অন্য চা পাতার পাশাপাশি আপনার প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাথমিক অবস্থায় ৫০ শতাংশ হলেও নিতে অনুরোধ করবেন। এ ব্যাপারে বন্ধু ও কাছের মানুষের সহযোগিতা নিতে পারেন। এছাড়া অনেক সরকারি বা বেসরকারি অফিসে প্রায় প্রতিদিনই চা পাতা লাগে। তাদের সঙ্গে কথা বলেও চা পাতা দিতে পারেন। এর বাইরেও সবচেয়ে বড় জায়গা হচ্ছে আপনার এলাকার হাজার হাজার মুদি দোকান। তাদের কাছেও চা পাতা বিক্রি করতে পারবেন।

কোম্পানিই আপনার হয়ে কাজ করে দেবে

 ছোট চা কোম্পানিগুলো নিজেদের ব্যবসা পরিচালনা করার জন্য নিজেরাই এ ক্ষেত্রে ডিলারদের সহযোগিতা করে থাকেন। উপজেলা বা জেলা শহরে যখন কেউ ডিলারশিপ গ্রহণ করেন তখন তাদের এলাকায় ক্যাম্পেইন, পোস্টারিং, ব্যানার, ফেস্টুন, লিফলেট দিয়ে প্রচারণা পরিচালিত হয় কোম্পানি থেকে। এছাড়া চা পাতার ব্যবসা কিভাবে করতে হবে এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ এবং ঢাকায় নিয়ে এসে অভিজ্ঞদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়ে থাকে চা পাতা বিক্রেতা কোম্পানিগুলো।

ব্যবসা করতে না পারলে?

অনেক সময় লাখ টাকা বিনিয়োগ করার পরেও ব্যবসা নাও হতে পারে। তবে এতেও কোনো সমস্যা নেই। চা পাতা কোনো না কোনভাবে তো বিক্রি হয়েই যাবে। সেক্ষেত্রে আপনার টাকা লোকসান হওয়ার আশঙ্কা নেই। কারণ পণ্য তো আপনার কাছেই থাকবে। তবে কোম্পানিগুলোও বিক্রিত মাল ফেরত নেয়ার একটি রাস্তা রেখে দেয়। এ ক্ষেত্রে সামান্য কম টাকায় কোম্পানিকে চা পাতা ফেরত দিয়ে টাকা ফেরত নেয়ার নিয়ম রয়েছে। ফলে ব্যবসা করতে না পারলেও কোনো সমস্যা থাকছে না।

বেকারদের চাকরি দিতে পারেন

 আপনি চাইলে প্রথমদিন থেকেই লোক নিয়োগ দিয়ে চা পাতা বিক্রি করতে পারেন। অথবা ব্যবসার পরিধি যখন বৃদ্ধি পাবে তখন কয়েকজন বেকার লোকের চাকরি দিতে পারেন। মফস্বল শহরে নিশ্চয় কম টাকায় চাকরি দিয়ে অনেক কাজ করিয়ে নিতে পারবেন। তবে অন্তত এসএসসি পাস এমন লোক নিলে ভালো হয়। যাতে টাকা-পয়সার হিসাবে কোনো সমস্যা না হয়। এছাড়া আপনার এলাকায় খোঁজ নিলে এ ব্যাপারে অভিজ্ঞ কিছু লোক পেতে পারেন। তাদের কাজে লাগাতে পারলে ব্যবসা নিয়ে আপনাকে খুব বেশি চিন্তা করতে হবে না।

সমস্যা

 অনেক সময় চা পাতার মতো অন্যান্য পণ্য বিক্রি করার সময় দোকান বা অফিসে বাকি পড়ে যায়। এ ক্ষেত্রে প্রতিদিনের পণ্য দেয়ার পরের দিন আপনি টাকা পাবেন এভাবে আপনাকে হিসাব রাখতে হবে। সাধারণত প্রায় প্রতিদিন বা একদিন অন্তর চা পাতার প্রয়োজন হয় বলে দোকান বা অফিস আগের টাকা পরিশোধ করেই নতুনভাবে চা পাতা নিয়ে থাকেন। তবে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে বাকির পরিমাণ যেন বেশি হয়ে না যায়।

কত বিনিয়োগ

 চা পাতার ব্যবসা করতে হলে প্রাথমিক অবস্থায় ১/২ লাখ টাকা নিয়ে নামলেই সম্ভব। তবে দিনদিন ব্যবসা ভালো হলে এ পরিমাণ বাড়াতে হবে। ব্যবসায় যত টাকা বাড়ানো যাবে ততই মুনাফা হবে। ন্যূনতম ১ লাখ টাকার চা পাতা কিনলে কোম্পানি পুরো টাকার চা পাতা দিয়ে দেবেন। সঙ্গে প্রচারণা করার জন্য সব ধরনের সহযোগিতা করে থাকেন। তবে এ ক্ষেত্রে তুলনামূলক নতুন কোম্পানির সঙ্গে কাজ করলে তারা সব সময় সুযোগ-সুবিধা বেশি দিয়ে থাকেন। ব্যবসা টিকিয়ে রাখার জন্য তারা ভালো পণ্য এবং সহযোগিতার ব্যাপারে নিজ থেকে এগিয়ে আসেন। যা বড় কোম্পানিগুলো থেকে পাওয়া একটু কঠিন। কারণ এসব কোম্পানি থেকে ডিলারশিপ নিতে হলেও অনেক লবিং বা বড় অংকের টাকা দিতে হয়।

ব্যবসা দেখিয়ে ঋণ নিতে পারেন

 আপনি যখন ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে বৈধভাবে ব্যবসা করছেন তখন আপনার পুঁজি কম হলেও এই ব্যবসা দেখিয়েই ঋণ নিতে পারবেন। সমিতি, সমবায় প্রতিষ্ঠান এবং প্রায় সব ধরনের সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক এসব ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করে থাকেন। সম্প্রতি সরকারি ব্যাংক এবং নতুন অনুমোদন পাওয়া বেসরকারি ব্যাংকগুলো এসব ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের কোনো প্রকার জামানত ছাড়াই ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যাংক ঋণ দিচ্ছে। এ ব্যাপারে আপনার নিকটস্থ ব্যাংকেও খোঁজ নিতে পারেন। ব্যাংক ঋণ পেলে তখন ব্যবসার পরিধি বৃদ্ধি করতে পারবেন।
(Visited 62 times, 1 visits today)

Leave a Reply